Thursday, April 2, 2026
Latest:
Uncategorized

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ অধ্যাদেশ বাতিলের পথে, নতুন বিল আনার সুপারিশ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১৬টি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত না হওয়ায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে যাচ্ছে। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে তামাদি হয়ে যাবে। তবে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটি এগুলোকে আরও পরিমার্জন করে শক্তিশালী আকারে নতুন বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে।

বৃহস্পতিবার স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশেষ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৬ অধ্যাদেশ বাতিলের পথে, নতুন বিল আনার সুপারিশ……..

গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দিন ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। টানা তিনটি বৈঠকের মাধ্যমে কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

কী সুপারিশ করা হয়েছে

কমিটির প্রতিবেদনে—

  • ৯৮টি অধ্যাদেশ অপরিবর্তিত অবস্থায় পাসের সুপারিশ করা হয়েছে
  • ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে
  • ৪টি অধ্যাদেশ তাৎক্ষণিকভাবে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে
  • আর ১৬টি অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুনভাবে প্রণয়ন করার সুপারিশসহ আপাতত বাতিল হতে যাচ্ছে

কেন বাতিল হচ্ছে

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো অধ্যাদেশ জারির পর তা পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে সেটি বাতিল হয়ে যায়। এই নিয়ম অনুসারেই ১৬টি অধ্যাদেশের মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ যেসব অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে

বাতিলের তালিকায় রয়েছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, আয়কর, কাস্টমস, তথ্য অধিকারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনসংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এসব বিষয়কে নতুনভাবে আরও শক্তিশালী করে ভবিষ্যতে বিল আকারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট)

সংসদীয় কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাতিল হতে যাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টিতে জামায়াতে ইসলামীর তিনজন সংসদ সদস্য ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছেন। তারা মোট ১৫টি বিলের ওপর আপত্তি বা ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।

সামনে কী আসছে

যে ১৬টি অধ্যাদেশ বাতিল হতে যাচ্ছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো নতুন করে প্রণয়ন করে সংসদে বিল হিসেবে উত্থাপন না করলে আইনগতভাবে সেগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোকে টেকসই ও কার্যকর আইনে রূপ দিতে সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে যাচাই-বাছাইয়ের ওপরই এখন গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *