আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের যেখানেই সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠবে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নির্বাচনের ফলাফল স্বীকৃতি, তবে প্রশ্নের জায়গাগুলোতে আইনি পদক্ষেপ
পোস্টে তিনি জানান, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন অর্জন করেছে এবং জামায়াত এই ফলাফলকে স্বীকৃতি দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি জটিল চিত্রও তুলে ধরেছে।
আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান….
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপি জোট জয়ী হলেও প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট পাওয়া জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটও একটি শক্তিশালী জাতীয় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ পদ্ধতিতে বহু ভোট কাঠামোগত কারণে যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।
তিনি দাবি করেন, ৫৩টি আসনে বিএনপি অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। এসব আসনের কয়েকটি বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এটি জাতীয় ফলাফল প্রত্যাখ্যানের কোনো উদ্যোগ নয়; বরং যেসব আসনে প্রশ্ন উঠেছে, সেখানে ভোটের স্বচ্ছতা ও সততা নিশ্চিত করার জন্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণতন্ত্র টিকে থাকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর। যেখানে ভোট গণনায় বিলম্ব, অনিয়ম বা বিরোধের অভিযোগ উঠেছে, সেখানে আইনগত কাঠামোর ভেতরে থেকেই পুনর্গণনা ও প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ভোট সঠিকভাবে গণনা হওয়া এবং প্রতিটি যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও দ্রুত কার্যক্রমের ওপর।
সংস্কার প্রশ্নে ‘জাতীয় ম্যান্ডেট’
পোস্টে তিনি জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বিপুল সংখ্যক ভোটার সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন, যা পরিবর্তনের পক্ষে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় ম্যান্ডেট। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার এ ম্যান্ডেটকে সম্মান করবে এবং সংযম ও জবাবদিহির সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।
তার ভাষায়, “সংস্কার কোনো স্লোগান নয়, এটি একটি আমানত।”
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, যেখানেই সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিএনপি নেতৃত্বের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন সংবিধানের নিয়ম মেনে দেশ পরিচালনা করেন এবং আইন লঙ্ঘনকারী যে কোনো কর্মীকে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে জবাবদিহির আওতায় আনেন।
পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের সময়
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি এমন একটি সময় যখন রাজনৈতিক পরিপক্বতা ও জাতীয় দায়িত্ববোধের পরিচয় দেওয়া প্রয়োজন। তিনি সকলকে শান্ত, সংযত ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
তার মতে, জনগণের ইচ্ছার প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষিত রেখে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ক্ষমতার প্রয়োগ হবে সততা, সংযম ও জবাবদিহির মাধ্যমে।
