ইরান ইস্যুতে ‘সীমানির্দেশক’ কোনো চুক্তি হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা কীভাবে এগোবে তা নিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahuর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে কোনো ‘সীমানির্দেশক’ বা নির্দিষ্ট নীতিগত চুক্তি হয়নি। তবে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
বুধবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বৈঠক শেষে ট্রাম্প একে “খুব ভালো আলোচনা” বলে উল্লেখ করলেও জানান, এতে কোনো বড় সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির পাশাপাশি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার সীমিত করার বিষয়টি আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার যে অনুরোধ নেতানিয়াহু তুলেছিলেন, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি ট্রাম্প। তিনি শুধু বলেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ অবশ্যই গুরুত্ব পাবে।
ইরান ইস্যুতে ‘সীমানির্দেশক’ কোনো চুক্তি হয়নি….
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর এ নিয়ে সাতবার মুখোমুখি বৈঠক করলেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু। তবে এবারের সফর ছিল তুলনামূলকভাবে অনাড়ম্বর; সংবাদমাধ্যমের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার ওমানে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষই আলোচনাকে ‘ইতিবাচক’ বলে আখ্যা দিয়ে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পরবর্তী ধাপের আলোচনায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজছেন নেতানিয়াহু।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, দুই নেতার সাম্প্রতিক বৈঠকে বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুও উঠে আসে। তবে ট্রাম্প নেতানিয়াহুর নির্দিষ্ট অনুরোধ প্রকাশ্যে সমর্থন করা থেকে বিরত থাকেন।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যদিকে তেহরানও সতর্ক করে বলেছে, আক্রমণের শিকার হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। ইতোমধ্যে ইরানের আশপাশের জলসীমায় অতিরিক্ত নৌ-শক্তি মোতায়েন এবং মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারির মধ্যে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবে সব উত্তেজনার মধ্যেও ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন—ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণে ইসরায়েলকে ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
