এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের: তারেক রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের।” তিনি দাবি করেন, দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় ও গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আবারও বিএনপির প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর Hotel InterContinental Dhaka-এর বলরুমে আয়োজিত নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে জবাবদিহিমূলক সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের: তারেক রহমান….
তারেক রহমান জানান, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট অনুযায়ী দল নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অকার্যকর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহ পুনর্গঠনের মধ্য দিয়েই নতুন যাত্রা শুরু হবে।” রাষ্ট্র সংস্কারের যে রূপরেখা বিএনপি উপস্থাপন করেছিল, তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও পথ থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ও বিরোধী দল দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে।
নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ধরনের অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীদের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ মেনে নেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেন তিনি।
অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের ভূমিকাকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন, জাতি তাদের অবদান চিরদিন স্মরণ রাখবে।
এ সময় প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-র কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “দেশের এমন এক আনন্দঘন মুহূর্তে তাঁর অনুপস্থিতি আমাদের ভারাক্রান্ত করেছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান জাতি কখনো ভুলবে না।”
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “এখন দেশ গড়ার পালা। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
