Uncategorized

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৯ জানুয়ারি

ঢাকা:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয়। এ কারণে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম নতুন করে ২৯ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদির ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। তাকে গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৯ জানুয়ারি…

পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে মামলায় দণ্ডবিধির ১২০(বি), ৩২৬, ৩০৭, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে ২০ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ডিবির দেওয়া চার্জশিটে অসন্তোষ প্রকাশ করে মামলার বাদী ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

ডিবির দাখিল করা চার্জশিট অনুযায়ী, অভিযুক্ত ১৭ জনের মধ্যে ১১ জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন এবং ছয়জন পলাতক।

পলাতক আসামিরা হলেন—প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, রাজধানীর মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।

অন্যদিকে, কারাগারে আটক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা এবং শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।

ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে তার পরিবার ও সহকর্মীরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্নের আহ্বান জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *