ক্ষমতায় এলে কওমি মাদরাসার সব স্তরের সনদের স্বীকৃতি দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান
ঢাকা:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে কওমি মাদরাসার সব স্তরের সনদের পূর্ণ স্বীকৃতি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এতদিন বিভিন্ন সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবহেলা করেছে। আংশিক স্বীকৃতি দিয়ে এই বিশাল শিক্ষাব্যবস্থাকে মূলধারা থেকে দূরে রাখা হয়েছে, যা আর চলতে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আইনের চোখে সবাই সমান হবে। সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে থাকা ব্যক্তির জন্য বিচার ও শাস্তির ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা থাকবে না। অপরাধই হবে বিচারের একমাত্র মানদণ্ড। তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবেন এবং তাদের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি ছয় মাস পরপর জনগণের মুখোমুখি হতে হবে।
ক্ষমতায় এলে কওমি মাদরাসার সব স্তরের সনদের স্বীকৃতি দেবে জামায়াত: ডা. শফিকুর রহমান…
জনপ্রতিনিধিদের দুর্নীতি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী, খাল-বিল দখল বা দূষণ করতে পারবে না। এ ধরনের অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতার উপযোগী করা হবে। যুবসমাজকে বেকার ভাতার ওপর নির্ভরশীল না করে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
নারী অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। বড় শহরগুলোতে নারীদের জন্য ইভেনিং বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, “আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত ও আধিপত্যবাদমুক্ত বাংলাদেশ চাই। জনগণের অর্থে কেনা অস্ত্র যেন আর জনগণের বুকে ব্যবহৃত না হয়—সেই বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য।”
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কাউকে চাঁদাবাজিতে জড়াতে দেওয়া হবে না। যারা এই পথ ছেড়ে সঠিক পথে ফিরতে চায়, তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। চাঁদাবাজি দমনে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশেষ অ্যাপ চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।
জনসভায় ঢাকা-৫ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকা অবহেলিত। জলাবদ্ধতা, ময়লার সমস্যা ও বন্ধ জুটমিল মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, এলাকাটিকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ সৃষ্টি করে যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
জনসভায় জামায়াতে ইসলামী ও জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
