Monday, March 30, 2026
Latest:
Uncategorized

গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিল এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে দলটি মনে করছে, এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না, কারণ অধ্যাদেশটি ইতোমধ্যে তার উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।

রোববার রাতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধীদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পর্কিত অধ্যাদেশগুলোতে পরিবর্তন আনার সরকারি উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে জামায়াত, যারা এসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছে।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এসব অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই উত্থাপন করা হয় এবং ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১২ এপ্রিল।

গণভোট অধ্যাদেশ সংসদে তোলা হবে না—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ফলে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ১২ এপ্রিল এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। তবে দলটি মনে করছে, এর ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটের বৈধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠবে না, কারণ অধ্যাদেশটি ইতোমধ্যে তার উদ্দেশ্য পূরণ করেছে।…….

বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ইঙ্গিত দেন, গণভোট অধ্যাদেশ আর সংসদে তোলা হবে না। তিনি বলেন, “গণভোট ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই অধ্যাদেশের আর ভবিষ্যৎ কোনো ব্যবহার নেই। তাই এটিকে আইনে পরিণত করার প্রয়োজন নেই।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গণভোট আয়োজনের জন্যই এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল এবং সেই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে। ফলে এটিকে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মনে করছে সরকার।

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে। দলের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গোটা জাতি গণভোটে অংশ নিয়েছে। এখন সেটি বাতিলের কথা বলা হচ্ছে, যা আমরা মেনে নিতে পারি না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়?

তিনি আরও দাবি করেন, বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া, সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যকারিতা ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই তারা একাধিক অধ্যাদেশে আপত্তি জানিয়েছেন।

বিশেষ কমিটি আগামী ২ এপ্রিল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংসদে জমা দেবে। এতে কোন কোন অধ্যাদেশ অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে, কোনগুলো সংশোধন করা হবে এবং কোনগুলো বাতিল হবে—তা স্পষ্ট হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *