চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, সব কার্যক্রম বন্ধ
সমাধান চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে ব্যবসায়ীদের খোলা চিঠি
ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা না দেওয়ার দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। ধর্মঘটের ফলে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবনসহ বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ)–সব ধরনের পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত ধর্মঘটে বহির্নোঙরের কার্যক্রম চালু থাকলেও এবার সেটিও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ব্যবসায়ী মহল।
চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট, সব কার্যক্রম বন্ধ….
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রায় ২০০ সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিককে বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেয়। তবে আন্দোলনকারীরা এই সভা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এর আগে শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচির ঘোষণা দেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন। তিনি জানান, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের পাশাপাশি তাদের আরও তিনটি দাবি রয়েছে। দাবিগুলো হলো—চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহার, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলা ও আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের আরেক সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে এবং ৩ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি পালন করা হয়। নৌ উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের আশ্বাসে শুক্রবার ও শনিবার কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আন্দোলনের পরিসর বাড়িয়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের আমদানি-রপ্তানি, শিল্প উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা দ্রুত সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন।
