Tuesday, February 24, 2026
Latest:
Uncategorized

চরম আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা

গভীর আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে জাতিসংঘ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও বকেয়া চাঁদা পরিশোধ না হলে সংস্থাটি কার্যত অচল হয়ে পড়তে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।

সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের আর্থিক কাঠামো ও চাঁদা পরিশোধ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন না আনলে জাতিসংঘকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থার নিয়মিত কার্যক্রম চালানোর মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ হাতে নেই।

জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র ফারহান হক সংকটের গভীরতা তুলে ধরে বলেন, “তহবিলের অবস্থা এখন এতটাই নাজুক যে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে অবিলম্বে বকেয়া চাঁদা পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় আমাদের সামনে আর কোনো বাস্তব বিকল্প থাকবে না।” তিনি আরও জানান, আগের বছরগুলোর মতো কার্যক্রম সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য বর্তমানে সংস্থার হাতে নেই।

চরম আর্থিক সংকটে জাতিসংঘ, অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা….

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। যদিও কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা থেকে অর্থায়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা এবং বিকল্প বৈশ্বিক উদ্যোগ চালুর প্রবণতা এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, প্রভাবশালী দেশগুলোর এমন অনাগ্রহ আন্তর্জাতিক আইন, শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষার কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর জিডিপি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে বার্ষিক চাঁদা নির্ধারণ করা হয়। এই কাঠামোতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বোচ্চ ২২ শতাংশ এবং চীন প্রায় ২০ শতাংশ অর্থায়ন করে থাকে। তবে বাস্তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনেক দেশই চাঁদা পরিশোধ করছে না।

মহাসচিব গুতেরেস তার চিঠিতে সতর্ক করে বলেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের নগদ অর্থ পুরোপুরি ফুরিয়ে যেতে পারে। তিনি দীর্ঘদিনের একটি নিয়মের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, প্রতি বছর অব্যবহৃত অর্থ ফেরত দেওয়ার যে প্রথা রয়েছে, তা বর্তমান বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। পর্যাপ্ত তহবিলই যখন নেই, তখন অর্থ ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা সংস্থাটিকে এক ধরনের দুষ্টচক্রে আটকে ফেলেছে।

বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে মাত্র ৩৬টি দেশ ২০২৬ সালের জন্য তাদের পূর্ণ চাঁদা পরিশোধ করেছে। এই চিত্র জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *