Friday, April 3, 2026
Latest:
Uncategorized

পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফেরানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সরকারের কৌশলের অন্যতম প্রধান অংশ। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে দেশ থেকে আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে—যা বছরে গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানসহ মোট ১১টি অগ্রাধিকারভুক্ত মামলায় পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলায় ইতোমধ্যে দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ বিভিন্ন দেশে স্থানান্তরিত হওয়ায় তা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ১০টি দেশকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তির বিষয়ে সম্মতি মিলেছে, আর বাকি দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

পাচার হওয়া সম্পদ দেশে ফেরানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অগ্রগতি এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।…….

এ পর্যন্ত অর্থ পাচারের ঘটনায় ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টির অভিযোগপত্র জমা পড়েছে এবং ছয়টি মামলায় রায় হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করছে এবং আইনের ভিত্তিতেই সবার বিচার নিশ্চিত করা হবে, যাতে কেউ ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়।

এদিকে সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি। এই কার্ড নারীপ্রধানের হাতে দেওয়া হবে, ফলে পরিবারের সম্পদের ওপর নারীর নিয়ন্ত্রণ ও মর্যাদা বাড়বে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে কিছু এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডধারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের কাজও এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *