বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। এরপর মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথের মধ্য দিয়ে ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
এই শপথের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সূচনা ঘটল। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর পরিবারের তৃতীয় প্রজন্মের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা ন্যস্ত হওয়া দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা।
দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকলেও এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকা ও পিতৃভূমি বগুড়া—এই দুটি আসনেই তিনি বিজয়ী হন। তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, প্রায় দুই দশক পর আবারও সরকার গঠন করে দলটি।
১৯৯১ সালের পর এই প্রথম বাংলাদেশ একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেল। এর আগে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা টানা তিন দশকের বেশি সময় দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল শেষ করে নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল দেশ।
রাজনীতিতে তারেক রহমানের পথচলা সহজ ছিল না। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফিরে ব্যাপক জনসমর্থন পান। ২০০৯ সালে লন্ডনে অবস্থানকালে বিএনপির কাউন্সিলে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এবং দলকে পুনর্গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
মায়ের মৃত্যু ও দলের নেতৃত্ব গ্রহণের পর তাঁর কাঁধে নেমে আসে আরও বড় দায়িত্ব। গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ৯ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হন তারেক রহমান। এরপর তাঁর নেতৃত্বেই নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমেও তাঁকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল।
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী পুনর্গঠন। নতুন মন্ত্রিসভার হাত ধরে দেশবাসী প্রত্যাশা করছে—তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে নতুন সম্ভাবনার পথে।
