মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মোড় নিচ্ছে। এমন এক প্রেক্ষাপটে ইরানের নতুন নেতৃত্ব সম্পর্কে আশাবাদী মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
রোববার (২৯ মার্চ) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি ও পরোক্ষ—দুই ধরনের যোগাযোগই অব্যাহত রয়েছে। তিনি ইরানের বর্তমান নেতৃত্বকে ‘যথেষ্ট যুক্তিবাদী’ বলে উল্লেখ করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তবে একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এখনই কোনো কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হওয়ার পর তার ছেলে Mojtaba Khamenei নতুন নেতৃত্বে আসেন—এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প মনে করছেন, দেশটিতে ইতোমধ্যেই একটি ‘শাসন পরিবর্তন’ ঘটেছে। তার ভাষায়, নতুন নেতৃত্বের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো ধরনের ‘অপমানজনক’ অবস্থান মেনে নেবে না। ফলে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনি কূটনৈতিক পথও খোলা রাখার চেষ্টা চলছে।
এদিকে, চলমান সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Ishaq Dar জানিয়েছেন, এক মাস ধরে চলা উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সেখানে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
তবে পুরো প্রক্রিয়াটির সাফল্য এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটে ইসরাইলের অবস্থান শান্তি উদ্যোগের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান—কোনো পক্ষই ইসলামাবাদের বৈঠকে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি।
সব মিলিয়ে, সংঘাত ও কূটনীতির এই দ্বিমুখী পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ‘চুক্তি সম্ভব’ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন এক সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছে।
