মনোনয়ন যাচাইয়ে কঠোর ইসি, বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী ও জাপার চারসহ ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

মনোনয়ন যাচাইয়ে কঠোর ইসি, বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী ও জাপার চারসহ ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়ায় সারা দেশে বিভিন্ন আসনে এখন পর্যন্ত বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী ও জাতীয় পার্টির চারজনসহ মোট ৩৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
ইসি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া যাচাই-বাছাই কার্যক্রম আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এরপর আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী, জাতীয় পার্টির চারজন, জামায়াতে ইসলামীর একজন, এনসিপির একজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন, খেলাফত মজলিশের একজন এবং গণসংহতি আন্দোলনের একজন। বাকি প্রার্থীরা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে চেয়েছিলেন।
বিভিন্ন আসনের চিত্র
মনোনয়ন যাচাইয়ে কঠোর ইসি, বিএনপির পাঁচ বিদ্রোহী ও জাপার চারসহ ৩৭ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল..
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে চারজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ত্রুটি, বকেয়া কর পরিশোধ না করা, প্রয়োজনীয় ফরম দাখিল না করা এবং ঋণখেলাপি হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনে ১৩ জনের মধ্যে তিন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। প্রস্তাবকারী ভোটারের এলাকা সংক্রান্ত জটিলতা এবং স্বাক্ষর গরমিল এর প্রধান কারণ।
রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া) আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মঞ্জুম আলীর মনোনয়ন দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল করা হয়। তিনি এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
যশোরের ছয়টি আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী, জামায়াতে ইসলামীর একজনসহ আটজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। দলীয় মনোনয়নপত্র দাখিল না করা, ঋণ ও টিআইএন সংক্রান্ত জটিলতা এবং এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটিই ছিল প্রধান কারণ।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির দুই বিদ্রোহী প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, তাঁদের মনোনয়নপত্রে প্রয়োজনীয় সমর্থনকারী ভোটারের তথ্যে গরমিল পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া নরসিংদী, রাঙামাটি, ভোলা, পটুয়াখালী, নাটোর ও কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন আসনেও একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর ত্রুটি, মামলা ও ঋণ সংক্রান্ত তথ্য গোপন এবং দলীয় কাগজপত্রের ঘাটতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, আইন ও বিধি অনুযায়ী সবার মনোনয়নপত্রই কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে। কারও ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল করার সুযোগ পাবেন।
