সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডে ঐতিহাসিক রায়
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যা এবং ছয়জনের লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দুজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একজন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। রায়টি বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। পাশাপাশি চিফ প্রসিকিউটরের দেওয়া লিঙ্কের মাধ্যমেও তা সরাসরি দেখানো হয়।
সাবেক এমপি সাইফুলসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, আশুলিয়ার হত্যাকাণ্ডে ঐতিহাসিক রায়…
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা এবং কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন এবং সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।
সাত বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান। আর রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে গ্রেপ্তার থাকা আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তাদের উপস্থিতিতেই সংক্ষিপ্ত রায় পাঠ করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এই মামলায় শহীদ হয়েছেন সাতজন—সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক এবং মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত আমলে নেয়। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তখন উপস্থিত আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন।
এই রায়কে গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
