সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে রমজান শুরু
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়াসহ অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রামে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে পবিত্র রমজান মাসের রোজা শুরু করেছেন মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারীরা। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে তারা প্রথম রোজা পালন করেন।
প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে সিয়াম সাধনা শুরু করেছেন তারা। দক্ষিণ চট্টগ্রামে এটি দীর্ঘদিনের পরিচিত চর্চা হলেও একই দেশে ভিন্ন দিনে রোজা শুরুর বিষয়টি প্রতিবছরই জনমনে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দেয়।
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্ধশতাধিক গ্রামে রমজান শুরু………
দরবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামের হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগীরি (রহ.) হানাফি মাজহাবের আলোকে ফতোয়া দেন—পৃথিবীর যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখা গেলে তা অনুসরণ করে রোজা ও ঈদ পালন করা যাবে। সেই ধর্মীয় ব্যাখ্যার ধারাবাহিকতায় মির্জাখীল দরবারের অনুসারীরা সৌদি আরবসহ আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার ঘোষণাকে গুরুত্ব দিয়ে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন।
মির্জাখীল দরবার শরিফের দায়িত্বশীল মুহাম্মদ জালালুল হাই বলেন, “আমরা হানাফি মাজহাবের অনুসারী। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে আরব বিশ্বের চাঁদ দেখার সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পর এবং বৈজ্ঞানিকভাবে চাঁদের অবস্থান বিবেচনা করে বুধবার থেকেই সিয়াম শুরু করেছি। সে অনুযায়ী মঙ্গলবার রাতেই সাহরি খেয়ে প্রথম রোজা পালন করেছি, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও জানান, এটি তাদের শতবর্ষী ধর্মীয় অনুশাসনের অংশ এবং তারা কারও সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন না; বরং নিজেদের বিশ্বাস ও অনুসৃত মতের আলোকে আমল করে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, জাতীয়ভাবে চাঁদ দেখার ঘোষণার সঙ্গে ভিন্নতা থাকলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের এসব গ্রামে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালনের প্রথা বহু বছর ধরে চলে আসছে।
