হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ৮টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপের ফলে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো বাধার মুখে পড়বে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন চাপ ইরানের অবস্থান সহজে বদলাতে পারবে না।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে নতুন বিশ্লেষণ উঠে এসেছে। আলজাজিরার স্থানীয় সাংবাদিক তৌহিদ আসাদির মতে, তেহরান এই জলপথকে শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সংঘাতের ক্ষতিপূরণ আদায়ের একটি মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।
ইরান সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে বারবার সহনশীলতা, প্রতিরোধ এবং স্পষ্ট অবাধ্যতার সুর শোনা যাচ্ছে। এতে বোঝা যায়, তারা শুধু হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তাই নিশ্চিত করতে চায় না, বরং সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নির্দিষ্ট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছে। এই অর্থ দিয়ে তারা যুদ্ধজনিত ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চায়। অর্থাৎ, জলপথটিকে তারা এক ধরনের অর্থনৈতিক চাপের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে চাচ্ছে।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সিরিয়া, লেবানন ও ইরাকে ইরানের প্রভাব কিছুটা কমে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি তেহরানের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা এই ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনা চালালেও বড় ধরনের সুবিধা ছাড়া ছাড় দিতে আগ্রহী নয়।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মনে করছেন, হরমুজকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সহনশীলতার পরীক্ষা। ইরান সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রি করেছে এবং স্থলসীমান্ত বাণিজ্যের সুবিধা থাকায় শুধুমাত্র নৌ অবরোধ দিয়ে তাদের পুরোপুরি কোণঠাসা করা কঠিন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করতে চাইছে, কিন্তু বাস্তবে অন্তত নিকট ভবিষ্যতে তেহরান তার অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি এখন শুধু একটি জলপথ নয়—এটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যের একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে পেট্রো ডলারের প্রভাব কমে যাওয়া এবং পেট্রো ইউয়ানের উত্থান ভবিষ্যতে বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
