ভাতা নয়, যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুবসমাজের হাতে বেকার ভাতা তুলে দেওয়ার রাজনীতিতে তারা বিশ্বাস করেন না। বরং যুবকদের জন্য হালাল ও টেকসই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসাতে চাই, আর নিজেরা থাকব প্যাসেঞ্জার সিটে।”
শনিবার (গতকাল) দুপুরে শেরপুর শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাতা নয়, যুবকদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের….
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালার গোলামি যারা করে, তারা কালো মেঘ দেখলেও ভয় পায় না। তিনি একটি সহনশীল ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “তুচ্ছ কারণে হানাহানি হবে না—এমন বাংলাদেশ আমরা চাই। রাজনীতির নামে মানুষ হত্যাকে আমরা ঘৃণা করি।”
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কেউ সন্ত্রাস চালাতে চাইলে তার জবাব দেওয়া হবে, তবে তা হবে আল্লাহর নামে এবং আইনের সীমার মধ্যে থেকে। “নিজে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে জানাতে হবে,”—যোগ করেন তিনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, তার অ্যাকাউন্ট থেকে মায়েদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করা হয়েছে, যা তার আদর্শ ও বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি বলেন, “আমি মায়েদের সর্বোচ্চ সম্মান করি। ভুয়া হলেও যদি কোনো মা কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে মিছিল করেছে, অথচ বাস্তবে তারাই নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ করছে।
জনসভায় মঞ্চে ওঠার পর জুলাইয়ে পুলিশের গুলিতে মুখ বিকৃত হওয়া নালিতাবাড়ীর খোকন চন্দ বর্মণকে বুকে জড়িয়ে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে তিনি শ্রীবরদী উপজেলায় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কবর জিয়ারত করেন।
বক্তব্য শেষে তিনি শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের জামায়াত প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ তুলে দেন।
একই দিন জামালপুরে জেলা জামায়াত আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নারীদের স্বাবলম্বী করার সব দাবি বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, “আপনাদের টাকা আপনাদের কল্যাণেই ব্যয় হবে। আমরা চুরি করব না, লুট করব না, ব্যাংক খালি করব না, শেয়ার বাজার লুণ্ঠন করব না, চাঁদাবাজি করব না এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেব না।”
তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ে বলেন, “ইনশাআল্লাহ, তখন আপনাদের দাবি আপনাদের চোখের সামনেই বাস্তবায়িত হবে।”
