Uncategorized

নতুন সরকারের শপথ: সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, সম্ভাব্য তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি

নতুন সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংসদ নির্বাচনের চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হতে পারে। রোজার আগেই, আগামী ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে—বিশেষ করে ১৭ ফেব্রুয়ারিকে প্রাধান্য দিয়ে—এই শপথ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, একটি আড়ম্বরপূর্ণ ও স্মরণীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে চায় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বঙ্গভবনকেও প্রস্তুত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বঙ্গভবন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, সংসদ সচিবালয়, গণপূর্ত ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ ও গেজেট প্রকাশ

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন সরকারের দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা সংসদ সচিবালয় ও গণভবন পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেছেন।

নতুন সরকারের শপথ: সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, সম্ভাব্য তারিখ ১৭ ফেব্রুয়ারি…….

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশের জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নতুন কোনো জটিলতা না হলে ১৩ বা ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই গেজেট প্রকাশিত হতে পারে। এর পরই ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।

শপথ অনুষ্ঠান হবে স্মরণীয়

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ১৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—শপথ অনুষ্ঠানটি যেন সবদিক থেকে স্মরণীয় ও প্রাণবন্ত হয়। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।”

জানা গেছে, বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও এর সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওপর। কর্মকর্তাদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান হবে এ যাবৎকালের সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজনগুলোর একটি।

নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থাপনা

নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে অতিথিদের চলাচল, প্রটোকল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশ নতুন করে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় প্রবেশ করবে। তাই শপথ অনুষ্ঠানটিও হবে উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক।”

প্রস্তুত সংসদ ভবন

আগামী জাতীয় সংসদের অধিবেশন সামনে রেখে জাতীয় সংসদ ভবন পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংসদ ভবনের কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেগুলো সংস্কার করে এখন সংসদের কার্যক্রম শুরুর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে।

এ ছাড়া এমপি হোস্টেল, ন্যাম ভবন এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনও সংস্কার করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বলেন, “জাতীয় সংসদ ভবন এখন শতভাগ প্রস্তুত। যে কোনো সময় অধিবেশন শুরু করা সম্ভব।”

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে কমিটি

নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কমিটি ইতোমধ্যে চারটি সম্ভাব্য বাসভবন পরিদর্শন করেছে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নতুন সরকার। তবে অস্থায়ীভাবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা, সংসদ ভবন এলাকার স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন কিংবা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কোনো ভবন ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অবস্থান করছেন। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পদ ছেড়ে দিলেও নিয়ম অনুযায়ী বাসভবন ছাড়তে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বসবাসের উপযোগী করে একাধিক বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নতুন সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নেব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *