বিক্ষোভে আহতদের বেশিরভাগই লাঠির আঘাতে আহত: ঢামেক পরিচালক
শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে রাজধানীর যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভে আহত অধিকাংশ মানুষ লাঠির আঘাতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, বিক্ষোভ চলাকালে আহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ জন চিকিৎসা নিতে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনের শরীরে বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে বুলেট বা পিলেটের আঘাতে আহত কোনো রোগী হাসপাতালে আসেননি বলে নিশ্চিত করেন তিনি।
ঢামেক পরিচালক বলেন, আহতদের মাথা, মুখ, পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা মূলত লাঠির আঘাতের কারণে হয়েছে। পাশাপাশি অনেকেই টিয়ারশেলের ধোঁয়ার কারণে শ্বাসকষ্টে ভুগেছেন। তাদের অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে ভর্তি করার প্রয়োজন হয়নি।
বিক্ষোভে আহতদের বেশিরভাগই লাঠির আঘাতে আহত: ঢামেক পরিচালক….
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেক আহতকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং হাসপাতাল পরিস্থিতি সামাল দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন রোগীর সঙ্গে অতিরিক্ত লোকজন হাসপাতালে আসায় সৃষ্ট ভিড়। এতে চিকিৎসাসেবা দিতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে প্রায় ২০০ চিকিৎসক উপস্থিত রয়েছেন এবং চিকিৎসক ও নার্সের কোনো সংকট নেই। জরুরি বিভাগের সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যাতে একসঙ্গে অন্তত ২৫ জন রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। তিনি নিজেও সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি তদারকি করছেন।
উল্লেখ্য, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চ প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার প্রবেশমুখ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। শুক্রবার দুপুরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ সংগঠনের একাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পাশাপাশি আহত হন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীও। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, আন্দোলনকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়নি এবং নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
