ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ মঙ্গলবার দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে—একই পরিবারের তিন সদস্যের সরকারপ্রধান হওয়ার নজির স্থাপিত হতে যাচ্ছে প্রথমবারের মতো।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তাঁর নেতৃত্বেই প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনাসদস্যের হাতে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আসেন তাঁর সহধর্মিণী খালেদা জিয়া।
স্বামী হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে খালেদা জিয়া বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। রাজপথের আন্দোলন ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট তিনবার দেশের সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন এবং একাধিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে কখনো পরাজিত না হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়েন।
গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপির নেতৃত্বে আসে নতুন অধ্যায়। দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আজ তাঁর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাবা-মায়ের পর তিনিও দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একটি পারিবারিক উত্তরাধিকার নয়; বরং দেশের রাজনীতিতে ধারাবাহিক নেতৃত্বের এক নতুন অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হবে।
