পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আর চলবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। অর্থনীতিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করাই এখন অগ্রাধিকার।
বুধবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রথম কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত সক্ষমতা হারিয়েছে। তাই সবার আগে এসব প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং কার্যকর জবাবদিহিতা ছাড়া কোনো উন্নয়ন কর্মসূচিই টেকসই ফল দেবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পৃষ্ঠপোষকতার ভিত্তিতে পরিচালিত অর্থনৈতিক কাঠামো দেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে বড় বাধা। এই ধারা অব্যাহত থাকলে সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়। তাই অর্থনীতিতে সবার জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রতিটি নাগরিক সমানভাবে অংশ নিতে পারে এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের কারণে অর্থনীতি অনেকাংশে স্থবির হয়ে পড়েছে। পৃষ্ঠপোষকতা নির্ভর রাজনীতির ফলেই অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ শিথিল ও উদারীকরণ (লিবারালাইজেশন) প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হবে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করে এবং নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সবার জন্য উন্মুক্ত ও কার্যকর করা সম্ভব হবে। সরকারের লক্ষ্য হবে এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা, যেখানে সুযোগ, অংশগ্রহণ ও উন্নয়নের সুফল সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত থাকবে।
