Friday, April 10, 2026
Latest:
Uncategorized

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, Benjamin Netanyahu-এর সরকার যেন এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে, যেখানে স্থায়ী শান্তির চেয়ে নিরাপত্তা-নির্ভর সামরিক উপস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার পর গাজা, সিরিয়া এবং এখন লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলের ‘বাফার জোন’ বা নিরাপত্তা বলয় তৈরির উদ্যোগ সেই কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। দেশটির সামরিক ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নীতির ফলে অঞ্চলটি কার্যত দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের বাস্তবতায় ঢুকে পড়ছে।

তাদের মতে, কয়েক বছর ধরে চলা সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইসরায়েল বুঝতে পেরেছে যে Hamas, Hezbollah বা ইরান-সমর্থিত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়। ফলে এখন লক্ষ্য হচ্ছে এসব গোষ্ঠীকে দুর্বল রাখা এবং সবসময় চাপের মধ্যে রাখা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের মতে, Benjamin Netanyahu-এর সরকার যেন এক দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের কৌশল নিয়েই এগোচ্ছে, যেখানে স্থায়ী শান্তির চেয়ে নিরাপত্তা-নির্ভর সামরিক উপস্থিতিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।………

বিশ্লেষকদের ভাষ্যও প্রায় একই। Nathan Brown মনে করেন, ইসরায়েলি নেতৃত্ব এখন এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে, যেখানে তারা ‘চিরস্থায়ী সংঘাতের’ মধ্যে থেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ খুঁজছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও ইসরায়েল স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা ইরানের ওপর সরাসরি হামলা বন্ধ রাখতে পারে, কিন্তু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাবে।

লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি ইতিমধ্যে আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে। তাদের লক্ষ্য লিতানি নদী পর্যন্ত একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা, যা লেবাননের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৮ শতাংশ।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকার লাখো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বহু শিয়া অধ্যুষিত গ্রামে বাড়িঘর ধ্বংসের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, এসব স্থাপনা হিজবুল্লাহ অস্ত্র মজুত ও হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির সম্ভাবনা যতটা না বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠছে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার এক নতুন বাস্তবতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *