অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সেই সময়কে ঘিরে বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন।
বিশ্লেষক, ব্যবসায়ী ও সাবেক নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পরিবর্তে সেই সময়ে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সুদের হার বৃদ্ধি, ঋণখেলাপির রেকর্ড বৃদ্ধি, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো সমাধান তো হয়নি-ই, বরং অনেক ক্ষেত্রে আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
সমালোচকদের দাবি, অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি—ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয় এবং নতুন বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অনেকে মনে করেন, নীতিগত সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকতা ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তোলে।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময়কালে ঋণখেলাপি বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে, একই সঙ্গে উচ্চ সুদের কারণে বিনিয়োগ কার্যত থমকে যায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব কমে আসে উল্লেখযোগ্যভাবে। বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়ে এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়নেও দেখা যায় অদক্ষতা।
স্বাস্থ্য ও জ্বালানি খাত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও বরাদ্দের অভাব ছিল, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে।
অন্যদিকে বর্তমান সরকারকে এখন সীমিত তহবিল ও উচ্চ ঋণের বোঝা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজন সুসংহত নীতি, আস্থা পুনর্গঠন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি।
সব মিলিয়ে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালকে ঘিরে মূল্যায়ন এখনো বিতর্কিত। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে কেবল তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়, বাস্তবমুখী ও অংশগ্রহণমূলক নীতিনির্ধারণই সবচেয়ে জরুরি।
