নুহাশ হুমায়ূনের নতুন সিনেমা ‘মুভিং বাংলাদেশ’ নিয়ে শুরু থেকেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ। স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও হরর ঘরানার কাজ দিয়ে ইতোমধ্যেই আলাদা পরিচিতি পাওয়া এই নির্মাতা এবার প্রথমবারের মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা নির্মাণে নেমেছেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর অবশেষে শুরু হয়েছে সিনেমাটির শুটিং।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কাস্ট ঘোষণা করা হয়নি, তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে—এই সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন আফজাল হোসেন। তিনি ইতোমধ্যে কয়েকদিনের শুটিংও সম্পন্ন করেছেন। বিষয়টি তিনি নিজেও নিশ্চিত করেছেন, তবে তাঁর চরিত্র সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
এদিকে জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও এই প্রজেক্টে যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি এখনো শুটিং শুরু করেননি। খুব শিগগিরই তাঁর অংশের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলতে চাননি।
সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে একজন মোটরবাইক চালকের জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন এবং বাস্তবতার নানা চড়াই-উতরাই ঘিরে। নির্মাতার ভাষায়, এটি কেবল একজন মানুষের গল্প নয়—বরং এতে উঠে আসবে সময়ের প্রতিচ্ছবি, তরুণদের সংগ্রাম এবং সমাজের বহুমাত্রিক বাস্তবতা।
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর ধরে এই সিনেমার চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করেছেন নুহাশ হুমায়ূন। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি স্ক্রিপ্ট উন্নয়ন, প্রি-প্রোডাকশন এবং অর্থায়ন—সবকিছুতেই সময় দিয়েছেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল একটি পরিপূর্ণ ও মানসম্মত কাজ দর্শকের সামনে তুলে ধরা।
শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ‘মুভিং বাংলাদেশ’ ইতোমধ্যে দৃষ্টি কেড়েছে। সিনেমাটির চিত্রনাট্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফান্ড ও উৎসব থেকে অনুদান ও সহায়তা পেয়েছে। ২০২১ সালে তাইপে ফিল্ম কমিশন থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ অনুদান ছাড়াও সিনক্রাফট ফিল্ম ফান্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে সমর্থন এসেছে। পাশাপাশি কান চলচ্চিত্র উৎসব, লোকার্নো, টোকিও গ্রান্ট ফাইন্যান্সিং মার্কেট এবং ভারতের ফিল্ম বাজারেও প্রকল্পটি অংশগ্রহণ করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে শুটিং শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন নির্মাতা, এবং সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন ঢাকার প্রায় ২০টি ভিন্ন লোকেশনে চলছে টানা শুটিং। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত শুটিং চলবে। এরপর শুরু হবে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ।
এই সিনেমার সবচেয়ে বড় চমক হচ্ছে—প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে একেবারে নতুন একজন মুখকে। দীর্ঘ অডিশনের মাধ্যমে চরিত্রের সঙ্গে মানানসই একজনকেই বেছে নিয়েছেন নির্মাতা।
প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হওয়ায় কোনো তাড়াহুড়া করতে চাননি নুহাশ হুমায়ূন। বরং ধীরে-সুস্থে, যত্ন নিয়ে নিজের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছেন তিনি। সেই প্রচেষ্টারই ফল ‘মুভিং বাংলাদেশ’, যা এখন দর্শকের অপেক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে।
