Uncategorized

এ বছরই দেশে ফিরব, জীবন উৎসর্গ করেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য’— এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি চলতি বছরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান। ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তার দেশে ফেরা ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার বিষয় নয়; বরং বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার সঙ্গে এটি জড়িত।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমি আমার জীবন বাংলাদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। আমার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে, কিন্তু আমার মন পড়ে আছে বাংলাদেশে।”

তিনি তার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে বলেন, এটি একটি অবৈধ ও অসাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ। তিনি আরও বলেন, অতীতেও নানা ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছেন, তবে প্রতিবারই জনগণের সমর্থনে তা অতিক্রম করেছেন।

এ বছরই দেশে ফিরব, জীবন উৎসর্গ করেছি বাংলাদেশের মানুষের জন্য’— এনডিটিভিকে শেখ হাসিনা………

দেশে ফেরার অঙ্গীকার

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি মৃত্যুকে ভয় পান না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হারানোর ঘটনা এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জীবনের নানা সংকট পার করেও তিনি দেশের মানুষের পাশে থেকেছেন।

তার ভাষায়, “সব বাধা ও ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই আমার দেশে ফিরব।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ

দলের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো কাগুজে সংগঠন নয়; বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত একটি রাজনৈতিক দল।

তিনি দাবি করেন, নানা নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলটি জনগণের সমর্থন হারায়নি। বরং নির্যাতন ও প্রতিকূলতা আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করছে বলেও মন্তব্য করেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের পাশে থেকে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

নিষেধাজ্ঞা ও মামলার প্রসঙ্গ

আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর দলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে না; বরং জনগণের সমর্থনই তাদের প্রধান শক্তি।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা গেলেও জনগণের মন থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে তিনি দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়েছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।

অন্যদিকে, নিজের সরকারের সময়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, ডিজিটাল বাংলাদেশ, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সেই সময় বাংলাদেশ উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে যাচ্ছিল।

গোপন সমঝোতার গুঞ্জন নাকচ

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পর্দার আড়ালে কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন খবরের সত্যতা নাকচ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও ন্যায়বিচার কোনো গোপন আলোচনার বিষয় হতে পারে না। তার মতে, এসব সাংবিধানিক অধিকার, যা প্রকাশ্য ও আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া উচিত।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।

নির্বাসিত জীবনের অভিজ্ঞতা

ভারতে অবস্থান নিয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার ব্যক্তিগত জীবনের চেয়ে দেশের মানুষের অধিকারই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, প্রতিদিন দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন, দলীয় নেতা-কর্মীদের খোঁজ নেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার পরিস্থিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার শক্তি বাংলাদেশের মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের শক্তিতেই বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে আসবে এবং আওয়ামী লীগও ঘুরে দাঁড়াবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *