Uncategorized

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা

চোখের চিকিৎসা করিয়ে শনিবারই স্বামীর সঙ্গে বগুড়ার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীনের (৫৭)। কিন্তু সেই ফেরার পথ আর দেখা হলো না তার। রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে প্রাণ হারালেন তিনি। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে তাকে।

শুক্রবার রাতে স্বামী আব্দুল মতিনের সঙ্গে বাসে করে বগুড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন রনজিলা। পরিকল্পনা ছিল, শনিবার ভোরে ঢাকায় পৌঁছে ফার্মগেটের ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করাবেন। চিকিৎসা শেষে বিকেলেই স্বামীর সঙ্গে বগুড়ায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার।

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা…………

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে পৌঁছে স্বামী-স্ত্রী রিকশায় করে ফার্মগেটের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৬টার দিকে রিকশাটি জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী রনজিলার হাতে থাকা ব্যাগ ধরে টান দেয়।

হঠাৎ ছিনতাইকারীদের টানে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা সড়কে ছিটকে পড়েন রনজিলা। মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। স্বামী ও পথচারীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা….

নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি সরকারি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকায় স্বামী ও একমাত্র মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি গাবতলী উপজেলার সোনাকানিয়া গ্রামে।

১৯৮৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন রনজিলা। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক হিসেবে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত ছিলেন।

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা….

রনজিলার বড় ভাই জাহিদুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা শেষে শনিবার বিকেলেই বোনের বগুড়ায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ছিনতাইকারীদের কারণে তাকে এখন লাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ বগুড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রোববার সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে।

রনজিলার স্বামী ব্যবসা করেন। তাদের একমাত্র মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে এমন মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানোর ঘটনায় পরিবার-স্বজন, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চোখের চিকিৎসায় ঢাকায় এসে লাশ হয়ে ফিরলেন প্রধান শিক্ষক রনজিলা….

একটি সাধারণ চিকিৎসাযাত্রা যে এভাবে একটি পরিবারের জন্য চিরবেদনার দিনে পরিণত হবে, তা যেন কেউ ভাবতেই পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *