মস্তিষ্কে আটকে আছে বুলেট, শরীরে ৪৭টি ছররা গুলি: আহত নার্স রীপা গোমেজের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী
- চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।রীপা গোমেজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্র সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে রীপা গোমেজের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর মধ্যবাড্ডার বাজার গলিতে রীপা গোমেজের বাসায় যান ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল। সংগঠনটির সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এ সময় তাঁরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতা ও সমবেদনার বার্তাও পৌঁছে দেন।প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য মাসুদ রানা লিটন, ফরহাদ আলী সজীব, রুবেল আমিন এবং ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ অন্যরা।আহতদের সেবা করতে গিয়ে নিজেই গুলিবিদ্ধ হন রীপা২০২৪ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের কাছে আহত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন নার্স রীপা ফ্রান্সিসকো গোমেজ। সেদিন ৪৭টি সীসার ছররা গুলি ও দুটি রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হন তিনি। তাঁর ডান চোখের কোটরে লাগে সবচেয়ে গুরুতর আঘাত। একটি বুলেট মস্তিষ্কের প্রায় ১৪ সেন্টিমিটার গভীরে আটকে যায়।সেই ঘটনার পর থেকে দৃষ্টিশক্তির জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন রীপা। দীর্ঘদিন ধরে এসব শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মজীবনকে কঠিন করে তুলেছে।একদিকে নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে আসা—সব মিলিয়ে প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। তারপরও থেমে নেই তাঁর জীবনসংগ্রাম। নিজের চিকিৎসার খরচ জোগাতে অন্য রোগীদের সেবা দিয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন এই নার্স।আহতদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নিজেই গুরুতর আহত হওয়া রীপা গোমেজের দীর্ঘ চিকিৎসা ও প্রতিদিনের সংগ্রামের গল্প নতুন করে সামনে এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যচিত্রের মাধ্যমে। সেই তথ্যচিত্র দেখেই তাঁর খোঁজ নেওয়ার উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
