Uncategorized

প্রতীক বরাদ্দ শেষ, শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারযুদ্ধ

প্রতীক পেয়ে প্রচারযুদ্ধ শুরু


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র তিন সপ্তাহ। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চ প্রস্তুত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রচার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও প্রতীক পাওয়ার পরপরই অনেক প্রার্থী মাঠে নেমে পড়েছেন। কর্মী-সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়, দোয়া প্রার্থনা এবং নির্বাচনী এলাকায় ছুটে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে প্রচারযুদ্ধ।

নির্বাচনী উত্তাপের শুরুতেই দেশের কয়েকটি এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হন।

প্রতীক বরাদ্দ শেষ, শুরু হলো ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারযুদ্ধ…

দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে বুধবার রাতেই সেখানে পৌঁছেছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ আসন ঢাকা-১৫-তে জনসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবেন। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আজ সকালে জাতীয় নেতাদের মাজার ও কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তাদের প্রচারণা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এবার ৫১টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ২৯৮টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২৮৮টি আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ২২৪ আসনে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা ২৫৩ আসনে, জাতীয় পার্টির লাঙল ১৯২ আসনে, এনসিপির শাপলাকলি ৩২ আসনে এবং সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থী রয়েছেন ৬৫ আসনে। এ ছাড়া বিভিন্ন ছোট দল ও জোট মিলিয়ে বহু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৪৯ আসনে।

প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ের সামনে সকাল থেকেই প্রার্থীদের ভিড় দেখা যায়। প্রতীক হাতে পেয়ে প্রার্থীরা ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখেন। বাইরে অপেক্ষমাণ কর্মী-সমর্থকেরা হাততালি ও স্লোগানে তাঁদের স্বাগত জানান। অনেক জায়গায় উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এ বি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পরে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে।

চট্টগ্রামে ১৬টি আসনের প্রার্থীরাও প্রতীক পাওয়ার পর প্রচার শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা গণসংযোগ, মাজার জিয়ারত ও এলাকায় সফরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

সিলেট অঞ্চলেও প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচনী উৎসবের চিত্র দেখা গেছে। জেলার ছয়টি আসনে মোট ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সিলেট-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, দলীয় প্রতীক হাতে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচারণার গতি বেড়েছে। কয়েকজন প্রভাবশালী প্রার্থী নিজ নিজ প্রতীক পেয়ে সরাসরি মাঠে নেমে পড়েছেন। সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীক পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

এদিকে ১০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে আসন ছাড় নিয়ে কিছু জটিলতাও দেখা দিয়েছে। এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া কয়েকটি আসনে জামায়াত ও অন্য শরিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-১২ আসনে। আর সর্বনিম্ন দুজন প্রার্থী রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনে। নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণও এবার আলোচনায় এসেছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা আলোচিত ১৬ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিএনপির ৯ জন।

সব মিলিয়ে প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারযুদ্ধ। সামনে তিন সপ্তাহে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আরও উত্তাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *