Uncategorized

আমিরাতে ভিসা-সংক্রান্ত ভুক্তভোগী বাংলাদেশিদের সহায়তায় হটলাইন চালু হবে

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত যেসব বাংলাদেশি ভিসা বাতিলসহ বিভিন্ন জটিলতায় পড়ে দেশে ফিরেছেন বা বর্তমানে ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের সহায়তায় বিশেষ হটলাইন চালু করতে যাচ্ছে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে সেখানেও পৃথক একটি হটলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

আমিরাতে ভিসা-সংক্রান্ত ভুক্তভোগী বাংলাদেশিদের সহায়তায় হটলাইন চালু হবে………….

তিনি বলেন, নতুন এই হটলাইনের মাধ্যমে সমস্যায় পড়া প্রবাসীদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে, তাদের সমস্যার ধরন চিহ্নিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্তরিক এবং অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্রুত নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। দুই মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্তমান সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের উদ্দেশে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব দেশে যুদ্ধ, সংঘাত বা রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে, সেসব দেশের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণা বা মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ, অনেক দেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনত নিষিদ্ধ এবং এতে প্রবাসীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কিছু ব্যক্তির অসৎ কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষ করে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে জাল নথিপত্র ব্যবহার বাংলাদেশের শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

নুরুল হক নুর জানান, বর্তমান আইনে জাল নথিপত্র ব্যবহার বা জমা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এখন থেকে যেখানেই জাল নথিপত্র ধরা পড়বে, তা জব্দ করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগও নেওয়া হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে বাংলাদেশের জালিয়াতিবিরোধী অবস্থান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

তিনি বলেন, বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বার্থ এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষায় এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বিদেশি শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে সরকার ও প্রবাসীদের সমন্বিত দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *