ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে সরকার। প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ের ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর আওতায় এনে “ক্রীড়া কার্ড ও ভাতা” কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম চালু করা হয়। এবারের উদ্যোগের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “ক্রীড়া হলে পেশা, পরিবার পাবে ভরসা”, যা দেশের ক্রীড়াবিদদের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বার্তা বহন করে।
প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। বেতনের পাশাপাশি তাদের সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে, যা তাদের অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে মোট ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে।
নির্বাচিত ক্রীড়াবিদরা ২০২৫ সালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের জন্য সাফল্য বয়ে এনেছেন। তাদের মধ্যে আছেন আর্চারি, বক্সিং, জিমন্যাস্টিকস, সাঁতার, অ্যাথলেটিক্স, কারাতে, কাবাডি, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ নানা ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়। পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্যারা-অ্যাথলেটদের, যারা সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন।
এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ক্রীড়াবিদদের প্রতি চার মাস অন্তর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হবে। যারা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারবেন, তারা সুবিধা পেতে থাকবেন। তবে পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা দিলে তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনাও থাকবে।
সব ক্রীড়াবিদের জন্য সমান বেতন নির্ধারণ করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। জানা গেছে, এই ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর জন্যই সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদারিত্ব বাড়াবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়াকে ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
