ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা
ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে: আমীরে জামায়াত
ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রপ্রধান—আইনের চোখে সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করা হবে। অপরাধ করলে কেউই ছাড় পাবে না, প্রেসিডেন্ট হলেও একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে যাত্রাবাড়ী এলাকায় আয়োজিত এই জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হবেন। জনগণের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালিত হলে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছেই নিয়মিত জবাবদিহি করতে হবে। সে লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি ছয় মাস অন্তর জনগণের মুখোমুখি হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের নদী, খাল ও জলাশয় রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের বিশেষ দায়িত্ব নিতে হবে। কেউ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নদী বা খাল দখল কিংবা দূষণ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিদের বাস্তব দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ঢাকা-৪ ও ৫ আসনে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভা…
কওমী মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ধারার শিক্ষা অবহেলার শিকার। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে কওমী মাদ্রাসার সর্বস্তরের সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাংলা ভাষার পাশাপাশি আরবি ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপযোগী করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
যুব সমাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে নয়—যুবকদের দক্ষ ও উৎপাদনশীল করে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে তৈরি করাই জামায়াতের লক্ষ্য। বেকারত্বকে জাতির অভিশাপ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনাহীন রাজনীতিই যুবসমাজকে পিছিয়ে দিচ্ছে।
নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই দেশ এগিয়ে যাবে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বড় শহরগুলোতে নারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য ইভিনিং বাস সার্ভিস চালু করা হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে চাঁদাবাজির মতো অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা ভুল পথ থেকে ফিরে আসতে চায়, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগও দেওয়া হবে। চাঁদাবাজ শনাক্তে বিশেষ অ্যাপস চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জনসভায় ঢাকা-৫ আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, তার নির্বাচনী এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও অবহেলার শিকার। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বন্ধ থাকা জুটমিল চালুসহ এলাকার সার্বিক উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ঢাকা-৪ আসনের প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। জনগণের সমর্থন পেলে এলাকাটিকে আধুনিক ও বাসযোগ্য ঢাকায় রূপান্তর করা হবে। যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর আব্দুস সবুর ফকির। জনসভায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
