ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদগুলো ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সরকারি ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ পদকে কেন্দ্র করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সংসদপাড়ায়।
চিফ হুইপের ভূমিকা কী?
সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে চিফ হুইপ অন্যতম। চিফ হুইপের প্রধান দায়িত্ব হলো সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দলের সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম সমন্বয় করা। কোনো বিল বা প্রস্তাব উত্থাপিত হলে সংশ্লিষ্ট দলের সব সদস্য যেন নির্ধারিত অবস্থানে ভোট দেন, তা নিশ্চিত করেন চিফ হুইপ। পাশাপাশি সদস্যদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, কে কতক্ষণ বক্তব্য দেবেন তা নির্ধারণ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দলীয় কৌশল ঠিক করাও তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
সরকারি দল ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষেই চিফ হুইপ থাকেন। সরকারি দলীয় চিফ হুইপ সাধারণত সরকারের আইন প্রণয়ন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অন্যদিকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধী সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেন।
ত্রয়োদশ সংসদে বর্তমান পরিস্থিতি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করেন। একই দিন নতুন মন্ত্রিসভাও গঠন করা হয়।
তবে এখনো সরকারি দলীয় চিফ হুইপ ও সংসদ উপনেতার নাম ঘোষণা করেনি বিএনপি। ফলে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে নেতৃত্ব নির্ধারণ সম্পন্ন হয়েছে। জামায়াত-এনসিপি জোটের বৈঠকে শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা, সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং নাহিদ ইসলামকে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন: সংবিধান কী বলে?
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তাঁরা সংসদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন এবং সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষা ও কার্যপ্রণালী অনুসরণ নিশ্চিত করেন। স্পিকার নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত প্রবীণতম সদস্য অস্থায়ীভাবে অধিবেশন পরিচালনা করেন।
সংসদ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সরকার ও বিরোধী দলের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ এবং সংসদীয় কার্যক্রমের ভিত্তি স্থাপনের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
