বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট। ঘোষিত বেসরকারি ফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৬০টির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ও তাদের শরিকরা পেয়েছেন ১৯৭টি আসন। ফলে দলটির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—এমনটাই আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত ভোটগণনা শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফল ঘোষণা করেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৫৮টি আসন। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৪টি আসনে।
বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, ৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ…..
ইতিহাস বলছে, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে কাজী জাফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯০ সালের পর থেকে টানা নারী নেতৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়েছে। এ সময়ে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।
নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেলেও কোনো ধরনের বিজয় মিছিল না করার নির্দেশ দিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং জানিয়েছে, বাদজুমা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়। পরে কেন্দ্রগুলোতে গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।
শেরপুর-৩ (ঝিনাইগাতী-শ্রীবরদী) আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকায় এবার ২৯৯টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র ২৭৪ জন এবং নারী প্রার্থী ৮৩ জন—যাদের মধ্যে দলীয় ৬৩ ও স্বতন্ত্র ২০ জন।
এবার মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। প্রবাসী ভোটারদের জন্য ১২৪টি দেশে পাঠানো হয়েছিল পোস্টাল ব্যালট।
নির্বাচনের এই ফলাফল দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
