Tuesday, February 24, 2026
Latest:
Uncategorized

শেষ সমাধান সংসদে: অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩২ অধ্যাদেশের অধিকাংশই হচ্ছে না আইনে পরিণত

দেড় বছরের দায়িত্ব পালনকালে জারি করা ১৩২টি অধ্যাদেশের বেশির ভাগই আইনে পরিণত হচ্ছে না। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নীতিগত অনীহার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিন সকাল ১১টায় শুরু হবে নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে সংসদ সচিবালয়।

জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে অর্ধশতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপ পেতে পারে। তবে যেগুলো বর্তমান সরকারের সংস্কারনীতি ও নির্বাচনি অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, সেগুলো আইনে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে না। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর গুণগত পরিবর্তন ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বাছাই করে সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে।

শেষ সমাধান সংসদে: অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩২ অধ্যাদেশের অধিকাংশই হচ্ছে না আইনে পরিণত………

অধ্যাদেশগুলো নির্বাচন কমিশন, বিচারব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন, অর্থপাচার প্রতিরোধ, জনপ্রশাসন, স্থানীয় সরকার, অর্থনীতি, রাজস্ব ও করব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত, ডিজিটাল নিরাপত্তা, মানবাধিকারসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ খাতকে কেন্দ্র করে জারি করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনীয় মনে হলে খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে তা সংসদে বিল আকারে তোলা হবে।

উল্লেখযোগ্য অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ-২০২৪’, যার মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টাদের পদমর্যাদা, ক্ষমতা ও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক অধ্যাদেশে সংশোধন আনা হয়েছিল। জেলা ও উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৪-এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। আইনি সহায়তা, বন সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষা নিয়েও একাধিক অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ অধিবেশন না থাকলে বা ভেঙে গেলে রাষ্ট্রপতি জরুরি প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। তবে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো আইনে রূপান্তর না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্বকালীন সময়ে তারা ২০২৪ সালে ১৭টি, ২০২৫ সালে ৮০টি এবং ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৫টি—মোট ১৩২টি অধ্যাদেশ জারি করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যায় শেষ হয়।

এর আগে এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারও দুই বছরে ১২২টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। পরবর্তী সংসদে সেগুলোর মধ্যে ৫৪টি আইনে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয় এবং বাকিগুলো বাতিল হয়ে যায়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধ্যাদেশ জারি একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া হলেও শেষ পর্যন্ত জনগণের প্রতিনিধিদের সমর্থনই নির্ধারণ করে দেয় কোনটি আইন হবে, আর কোনটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। এখন সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা সংসদে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *