Uncategorized

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ তারেক রহমানের

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচন কমিশন এখনও ভোটের তফসিল ঘোষণা না করলেও এবং এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে বলে মনে করছে বিএনপি। এ কারণে আগেভাগেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করার পাশাপাশি জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, রংপুর জেলা ও মহানগর বিএনপির নেতাদের সঙ্গে এক সাংগঠনিক বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া বৈঠক রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত চলে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে তৃণমূল নেতাদের নির্দেশ তারেক রহমানের……………….

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী নির্ধারণে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে গুরুত্ব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দল-সমর্থিত প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ের সব ধরনের বিভেদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৮ জুলাই রংপুর বিভাগের দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে একই ধরনের বৈঠক করেন তারেক রহমান। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলার নেতাদের সঙ্গেও এ ধরনের সাংগঠনিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবারের বৈঠকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব প্রথমে থানা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ওপর থাকবে। সেখানে সমঝোতা না হলে বিষয়টি জেলা নেতারা দেখবেন। প্রয়োজন হলে বিভাগীয় নেতৃত্ব এবং সর্বশেষ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রার্থী চূড়ান্ত করবে।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আপাতত সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বা বিরোধ তৈরি হলে তা নির্বাচনী প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, যদিও এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, তবুও স্থানীয়ভাবে যদি একক ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করা যায়, তাহলে দলীয়ভাবে ওই প্রার্থীকেই সমর্থন দেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মঈনুল হাসান সাদিক বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, নির্বাচন যাতে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এবং দল ও সরকার কোনো বিতর্কের মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, এটি তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক সাংগঠনিক বৈঠকের অংশ। এসব সভায় তারেক রহমান স্থানীয় পর্যায়ের সাংগঠনিক অবস্থা পর্যালোচনা করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির এই আগাম প্রস্তুতি দলটির নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। দলীয় প্রতীক না থাকলেও সংগঠনের শক্তি, জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচন এবং তৃণমূলের ঐক্যকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে ভালো ফল অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বিএনপি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *