ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা SpiceJet দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারছে না। মূল কারণ—ওভারফ্লাইট চার্জ বাবদ বিপুল অঙ্কের বকেয়া অর্থ, যা সময়মতো পরিশোধ করা হয়নি।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে স্পাইসজেট ওভারফ্লাইটের অনুমোদন পেয়েছিল। এরপর থেকে নিয়মিত মাসিক ফি আর পরিশোধ করা হয়নি। ফলে কর্তৃপক্ষও তাদের নতুন করে ওভারফ্লাইট অনুমতি দেয়নি।
বেবিচকের সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশন্স) এয়ার কমোডর মুকিত-উল-আলম মিয়া জানান, বিষয়টি সাম্প্রতিক নয়। অনেক আগেই তাদের ওভারফ্লাইট কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, একটি সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রতি মাসে এক লাখ ডলার করে পরিশোধ করার কথা ছিল। মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৩০ লাখ ডলার। তবে গত বছরের মার্চের পর থেকে তারা আর ওভারফ্লাইটের আবেদন করেনি।
স্পাইসজেটের এক মুখপাত্র জানান, এটি একটি নিয়মিত ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া। বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়টি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাকে নির্ধারিত ‘ওভারফ্লাইট চার্জ’ পরিশোধ করতে হয়। বেবিচক বলছে, বাংলাদেশের আকাশপথ ব্যবহারের জন্য স্পাইসজেটের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফি বকেয়া রয়েছে।
এদিকে ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট FlightRadar24–এর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার থেকে স্পাইসজেটের ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশের আকাশসীমা এড়িয়ে বিকল্প ও দীর্ঘতর রুট ব্যবহার করছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশেষ করে পূর্বাঞ্চলীয় স্বল্প দূরত্বের রুটে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ওভারফ্লাইট অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে জ্বালানি ব্যয় ও পরিচালন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত যাত্রী ভাড়ার ওপরও পড়তে পারে।
