Sunday, April 19, 2026
Latest:
Uncategorized

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন হাসনাত আবদুল্লাহ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম-এর বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা ও কুমিল্লা–৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের কাট্টলি এলাকায় মনজুর আলমের বাসায় যান তিনি। তবে এই সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাসার সামনে জড়ো হন একদল ব্যক্তি, যারা নিজেদের “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দেন। সাক্ষাৎ শেষে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তারা হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন প্রশ্ন করছেন—“আপনি আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন এসেছেন? সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তাহলে এখানে আসার কারণ কী?” এমন পরিস্থিতিতে হাসনাত আবদুল্লাহকে শান্ত থাকার ইঙ্গিত দিয়ে হাত নেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়।

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়রের বাসায় গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন হাসনাত আবদুল্লাহ……..

পরে আরেকজন এসে উত্তেজিত লোকজনকে সরে যেতে অনুরোধ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের এক সমন্বয়ক জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন এবং মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাবেক মেয়র মনজুর আলমও গণমাধ্যমকে বলেন, “তিনি চট্টগ্রামে এসেছিলেন, পরে আমার বাসায় বেড়াতে আসেন। এটি নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ, এর বাইরে কিছু নয়।”

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে, আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন মনজুর আলম। এ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সাক্ষাতে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা হয়নি।

অন্যদিকে, রাতে এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। উভয় নেতা ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদও ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়ে আলোচনায় আসেন মনজুর আলম। তিনি সে সময় প্রভাবশালী নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী-কে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যান, যদিও বিভিন্ন সময়ে দলবদলের চেষ্টা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন।

সম্প্রতি এই সাক্ষাৎ ও তা ঘিরে সৃষ্ট প্রতিক্রিয়া চট্টগ্রামের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *