কুমিল্লার আলোচিত তনু হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়—১১ বছর পর তদন্তে গতি ফিরে আসতেই সংশ্লিষ্টদের ঘিরে নানা প্রশ্ন আবারও সামনে আসছে। এরই মধ্যে মামলার অন্যতম সন্দেহভাজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতারের পর এবার আলোচনায় এসেছেন ফরেনসিক রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসক।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয় সোহাগী জাহান তনু-র মরদেহ। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। সে সময় ফরেনসিক বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহা।
অভিযোগ উঠেছে, তনুর শরীরে স্পষ্ট আঘাতের চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও একই ধারা বজায় থাকে। বরং প্রতিবেদনে এমন কিছু ইঙ্গিত দেওয়া হয়, যা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন দাবি করেছেন, ফরেনসিক রিপোর্ট ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল এবং এতে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এখন বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র (এনওসি) সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন।
বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব পালনরত ওই চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
ইয়ার হোসেন বলেন, “মামলাটি এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় যারা শুরুতে তদন্তকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা জরুরি।” তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ওই চিকিৎসকের বিদেশযাত্রা স্থগিত ও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করার কথাও জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। “যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে,” বলেন তিনি।
এ বিষয়ে ডা. কামাদা প্রাসাদ সাহার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি, কারণ তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
তনু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে পরিবার ও সচেতন মহল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও, পুরো সত্য উদঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
