দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিবেশনটি পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম-এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-এর প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হয় এবং সব স্তরের নির্বাচন শেষ করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, আবহাওয়া পরিস্থিতি, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতি এবং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তফসিল ঘোষণা করা হয়। এ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতিতেই অন্তত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।
অন্যদিকে, নির্বাচন ব্যবস্থায় বড় একটি পরিবর্তনের কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয়—সব ধরনের নির্বাচনেই আর ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩,৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় লাখ ইভিএম কেনা হয়েছিল। তবে প্রকল্পটি নিয়ে অডিট আপত্তি উঠেছে এবং বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত চালাচ্ছে। অব্যবহৃত ইভিএমগুলো এখন বিভিন্ন গুদাম ও সংরক্ষণাগারে রাখা আছে।
এছাড়া প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফরিদপুর বিভাগে থাকবে ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসসংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন, নির্বাচন ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠনের বিষয়গুলো এখন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে—এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্যে।
