Wednesday, May 13, 2026
Latest:
Uncategorized

স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে শিক্ষার্থীদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ছাড়া কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। এ জন্য তরুণ সমাজকে জনমত গড়ে তোলার পাশাপাশি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে।

মঙ্গলবার (১২ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ১৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে ১৭ জন শিক্ষার্থী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন করেন।

স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর………

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশকে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। অস্থিরতা থাকলে কোনো অর্জনই টেকসই হবে না। কিছু তৈরি হবে, আবার তা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই স্থিতিশীলতা রক্ষা করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সমাধানের জায়গা হওয়া উচিত সংসদ। শুধুমাত্র রাজপথে সংঘাত বা উত্তেজনার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। গঠনমূলক আলোচনা, পরিকল্পনা ও সহযোগিতার মাধ্যমেই দেশ এগিয়ে যেতে পারে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, আবার একই সঙ্গে ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষেও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সব প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পক্ষে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শেখার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ভাষা দক্ষতা তরুণদের আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সাংস্কৃতিক বিকাশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা ছাড়া কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না।” সরকার স্কুল পর্যায়ে শিশুদের জন্য তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম ও সংগীত শিক্ষার ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে সময় লাগলেও ভবিষ্যতে তা ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী অতীত সরকারের সময় আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে বালিশ কেনাকে ঘিরে দুর্নীতির বিষয়ও উল্লেখ করেন। একটি বালিশের মূল্য ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এত দামের বালিশে সত্যিই ঘুম আসে কি না, সেটাই প্রশ্ন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিগত সময়ে মেগা প্রকল্পের আড়ালে ব্যাপক দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *