মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? শেষ মুহূর্তে আলোচনায় আরও তিন নেতা
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম এখন শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা দেয়নি বিএনপি।
বিবিসি বাংলাকে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদে একজন সক্রিয় ও অভিজ্ঞ রাজনীতিককে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনায় মির্জা ফখরুলের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট নেতারা দাবি করেছেন।
মির্জা ফখরুলই কি হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? শেষ মুহূর্তে আলোচনায় আরও তিন নেতা…………
তবে শেষ মুহূর্তের আলোচনায় মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি বিএনপির আরও তিন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও উঠে এসেছে। তারা হলেন—স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
কেন মির্জা ফখরুলের নাম সামনে?
দলীয় নেতাদের ভাষ্য, বিএনপি এবার রাষ্ট্রপতি পদে দলের ভেতর থেকে একজন অভিজ্ঞ, রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাকে দেখতে চায়। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এগিয়ে রয়েছেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং পরে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের বিরোধী রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন দলের দৃশ্যমান নেতৃত্বের অন্যতম মুখ।
দলের শীর্ষ দুই নেতা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাজনৈতিক অনুপস্থিতির বিভিন্ন সময়ে দেশে থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে দলের নেতাকর্মীদের কাছেও মির্জা ফখরুলের একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন বিএনপির কয়েকজন নেতা।
দলের ভেতরেও আছে ভিন্নমত
তবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে বিএনপির ভেতরে এক ধরনের মতভেদও রয়েছে।
একটি অংশ মনে করছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে রাষ্ট্রপতি পদে বসানো যেতে পারে। অন্য অংশের যুক্তি, দল ও সরকার পরিচালনায় মির্জা ফখরুলের মতো অভিজ্ঞ নেতার সক্রিয় ভূমিকা এখনো প্রয়োজন। তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে দল সাংগঠনিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়তে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
এ ছাড়া মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপিকে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়েও নতুন মন্ত্রী নিয়োগের প্রয়োজন হবে। ফলে বিষয়টি শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে দল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নও জড়িয়ে আছে।
রাষ্ট্রপতির পদ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকটের সময়ে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হলে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এদিকে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পর রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কবে জানা যাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা জানিয়েছে। ফলে এর আগেই বিএনপিকে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হবে।
দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের আলোচনায় রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর দেওয়া হয়েছে। এখন তার সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা।
তবে শেষ পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হচ্ছেন, নাকি আলোচনায় থাকা অন্য কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়।
