অপ্রতীম হত্যা: তিনজন আটক, উদ্ধার মায়ের আইফোন
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডে আটক তিন তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের পাশাপাশি অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক তিনজন হলেন—মো. তুহিন, শাহরিয়া আনাস ও মো. ফাহিম।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই অপ্রতীমের মায়ের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতীম হত্যা: তিনজন আটক, উদ্ধার মায়ের আইফোন…..
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়। তবে মামলার তদন্তের এ পর্যায়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যেভাবে নিখোঁজ হয় অপ্রতীম
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল অপ্রতীম। এরপর আর সে বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপ্রতীম হত্যা: তিনজন আটক, উদ্ধার মায়ের আইফোন….
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতীমের ফোনের অবস্থান গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত করা যায়। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
অপ্রতীমের সন্ধানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিন নামে এক তরুণকে দেখা যায়। এরপর তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আনাস ও ফাহিমকে আটক করা হয়।
নির্জন জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল।
অপ্রতীম হত্যা: তিনজন আটক, উদ্ধার মায়ের আইফোন…..
অপ্রতীম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।
মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট
অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে পোস্ট দেন শাহরিয়া আনাস। সেখানে তিনি অপ্রতীমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার সঙ্গে আগে যোগাযোগের স্মৃতিও উল্লেখ করেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে ওই পোস্টসহ সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিস্তারিত জানাবে পুলিশ
অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধার হওয়া আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করছে পুলিশ। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শনাক্ত এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষার্থীরা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
