জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, চলমান সংকটে জনগণের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করে বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করা উচিত।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের…..
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনার দায় বারবার সাধারণ মানুষকে বহন করতে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সংকট মোকাবিলায় কার্যকর বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে জনগণের ওপর নতুন করে আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
নাহিদ ইসলাম জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েক মাসের মধ্যেই তৃতীয়বারের মতো জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। দাম বাড়ানোর পক্ষে সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন কারণ তুলে ধরছে।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের….
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে। তবে নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন, জ্বালানি তেল আমদানিতে বিভিন্ন ধরনের কর ও শুল্ক আদায় করা হলেও সংকটের সময়ে নাগরিকদের ওপর চাপ কমাতে এসব কর-শুল্ক সাময়িকভাবে কমানোর উদ্যোগ কেন নেওয়া হলো না।
তিনি আরও দাবি করেন, জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়েছে। অন্যদিকে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের…..
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দেশের অর্থনীতিতে বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কতটা জরুরি—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর প্রশ্ন, আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাব না কমা পর্যন্ত পে স্কেল বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা যায় কি না।
জ্বালানি তেলের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি নাহিদ ইসলামের….
নাহিদ ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে যদি জনগণের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়, তাহলে রাষ্ট্রের অন্যান্য খাতের ব্যয়ও পুনর্বিন্যাস করা উচিত। এতে সংকটের সময়ে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক এবং তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
