এলপিজির দাম বাড়ানোর সুপারিশ, আগামী সপ্তাহেই আসতে পারে নতুন ঘোষণা
- দেশের বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে অস্থিরতার মধ্যেই ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা দামের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হতে পারে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা। অর্থাৎ সিলিন্ডারপ্রতি দাম বাড়তে পারে ১৩৯ টাকা।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশনে এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আয়োজিত গণশুনানিতে এ সুপারিশ তুলে ধরে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা, সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা করতে পারে কমিশন।গণশুনানিতে এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিশন ও চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেইলার পর্যায়ে চার্জ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কারিগরি কমিটি।কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এলপিজির ইমপোর্ট প্যারিটি প্রাইস প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা। প্রস্তাবিত মূল্যসীমা ১১৭ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১২৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।এ ছাড়া মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে বর্তমানে ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে এ চার্জ বাড়িয়ে ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও কারিগরি কমিটি ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।ডিস্ট্রিবিউটর চার্জ বর্তমানে প্রতি কেজিতে ৪ টাকা ১৭ পয়সা। এটি বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাবের বিপরীতে কমিটি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।অন্যদিকে, রিটেইলার চার্জ প্রতি কেজিতে বর্তমানে ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। ব্যবসায়ীরা এ চার্জ ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার প্রস্তাব করেন। তবে কারিগরি কমিটির সুপারিশ ৫ টাকা ৮৩ পয়সা।সব পর্যায়ের খরচ ও চার্জ বিবেচনায় রিটেইলার পর্যায়ে প্রতি কেজি এলপিজির দাম বর্তমানে ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা। ব্যবসায়ীদের প্রস্তাব ছিল ১৫৮ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ৯৭ পয়সা। পর্যালোচনা শেষে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজির দাম ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এর ভিত্তিতেই ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।তবে দাম বাড়ানোর এ উদ্যোগ নিয়ে গণশুনানিতে আপত্তি জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকারকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, এলপিজির দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের স্বার্থ ও সুবিধা-অসুবিধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া বিইআরসির দায়িত্ব। তা নিশ্চিত না হলে গণশুনানির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।সিনিয়র সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির ভিত্তিতে বারবার দাম বাড়ানো হলে বিইআরসির প্রতি সাধারণ গ্রাহকদের আস্থা কমে যাবে। কেন ভোক্তারা নির্ধারিত ও ন্যায্য দামে এলপিজি পাচ্ছেন না, কমিশনকে তা খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি বাজারে অতিরিক্ত দাম আদায় ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগের বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।এদিকে, এলপিজি বাজারে সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিয়ে কোথাও কোথাও ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে দাম বাড়ানোর সুপারিশ সাধারণ গ্রাহকদের ব্যয় আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।উল্লেখ্য, গণশুনানির ৯০ দিনের মধ্যে প্রাপ্ত সুপারিশ ও মতামত পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য ঘোষণা করার কথা বিইআরসির। তবে কমিশন আগামী সপ্তাহেই নতুন দাম ঘোষণা করে কি না, এখন সেদিকেই নজর ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের।
