আন্তর্জাতিক

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় কি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু?

ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। নির্বাচনে আরব দলগুলোর নজিরবিহীন সাফল্য এবং তাদের সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে তাঁর শিবিরে। এমন পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছেন নেতানিয়াহু। তবে নিজের অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি তিনি। আরব নেতারা এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে উল্টো নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় কি আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়াচ্ছেন নেতানিয়াহু?…..

গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে আরব নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। এতে নেতানিয়াহু কিংবা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট—কেউই সহজে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে পৌঁছাতে পারেননি। নির্বাচনের এই অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে আরব জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের বক্তব্য আরও কঠোর হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর এই আক্রমণাত্মক অবস্থানের পেছনে রয়েছে সরকার গঠনের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

তাঁদের মতে, আরব দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার পথ কঠিন করে তুলতেই নেতানিয়াহু এমন বক্তব্য দিচ্ছেন। এর মাধ্যমে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকটকে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হতে পারে।

রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আইতান গিলবোয়ার মতে, নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েলের আরব ও ইহুদি নাগরিকদের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য বা সহযোগিতাকে অগ্রহণযোগ্য করে তোলা।

নির্বাচনের ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে দেখা গেছে, আসনসংখ্যায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে নেতানিয়াহুর জাতীয়তাবাদী ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট। অন্যদিকে গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ও মধ্য-বামপন্থী দলগুলোর জোট রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।

তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি। ১২০ আসনের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। আর আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোটের আসনসংখ্যা ৪৮।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো। ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ আরব নাগরিক। নির্বাচনে তাদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই ফলাফল সরকার গঠনের সমীকরণে আরব দলগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে আইজেনকটের জোটের পক্ষে তাদের উল্লেখযোগ্য সমর্থন ছাড়া ক্ষমতায় যাওয়া কঠিন হতে পারে।

যদিও এখন পর্যন্ত আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আইজেনকট। তবু নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তা স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে নির্বাচনে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন নেতানিয়াহু। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা ধরে রাখার এই কঠিন লড়াইয়ে আরব দলগুলোর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবই এখন তাঁর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।