জাতীয়

এনবিআরের ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ, প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তদন্তের স্বচ্ছতা

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান অস্থিরতায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তথ্য তলবের উদ্যোগে দেশের ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ তালিকায় রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিকারক, প্রতিষ্ঠিত শিল্পোদ্যোক্তা এবং রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন অনেক ব্যবসায়ীর নামও রয়েছে।

এনবিআরের ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ, প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে তদন্তের স্বচ্ছতা…..

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সুনির্দিষ্ট তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ করায় নিরপরাধ উদ্যোক্তারাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে একদিকে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ এবং বিদেশি ক্রেতাদের আস্থাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

শেলটেক গ্রুপ ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তানভীর আহমেদ এবং তাঁর মা রাশিদা আহমেদের ব্যাংক হিসাব জব্দের ঘটনা এ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদের। তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও নেই বলে জানা গেছে।

তানভীর আহমেদের বাবা বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও এনভয় টেক্সটাইলের চেয়ারম্যান কুতুবউদ্দিন আহমেদ। একসময় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদীর মালিকানাধীন এনভয় গ্রুপের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ছিল। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে তাঁরা ব্যবসায়িকভাবে আলাদা হয়ে যান। তবে পুরোনো ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে তানভীর আহমেদ ও তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে তানভীর আহমেদ বলেন, ‘যাচাই-বাছাই করে তালিকায় নাম দেওয়া হলে এমন হয়রানির ঘটনা ঘটত না। আমাদের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে আজকের অবস্থানে আসতে ৪০ বছর সময় লেগেছে। কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের সঙ্গে কথা বলা যেত। আমরা সহযোগিতা না করলে তখন ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আশা করি, দ্রুত যাচাই করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।’

এনভয় গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও তলব করেছে এনবিআর। পাশাপাশি গ্রুপটির সাবেক চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য সালাম মুর্শেদী, তাঁর স্ত্রী শারমিন সালাম এবং মেয়ে শেহরীন সালামের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর সালাম মুর্শেদী গ্রেপ্তার হলে তাঁর সন্তানদের একটি অংশ বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন।

শুধু এনভয় বা শেলটেক নয়, তৈরি পোশাক খাতের আরেক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তাঁর পরিবারের সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। ব্যবসায়ী মহলের দাবি, তাঁদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।

একইভাবে তুসুকা গ্রুপের একজন উদ্যোক্তার সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ার সূত্র ধরে গ্রুপটির অন্য তিন উদ্যোক্তাসহ একাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি আরশাদ জামালও রয়েছেন। ব্যবসায়ী মহলে উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর ইতিবাচক পরিচিতি রয়েছে।

দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য তলব

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোশাকশিল্পে শ্রমিকদের মজুরি আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতেও বিভিন্ন সরকারের সময়ে শ্রমিক আন্দোলনে রাজনৈতিক ও দেশি-বিদেশি মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ প্রকাশের নজির খুব বেশি নেই।

এবার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া এবং প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগকে নজিরবিহীন বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের পর গত সপ্তাহে এনবিআর এ পদক্ষেপ নেয়। এর আগে পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের বিষয়ে শিল্পমালিকদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেছিলেন।

গত সোমবার সচিবালয়ে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কিছু পোশাকশিল্পের মালিকও অস্থিরতা তৈরির পেছনে ভূমিকা রেখেছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও করেন তিনি।

এরপর গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে এনবিআরের আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (আইটিআইআইইউ) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) পৃথকভাবে তালিকা তৈরি করে।

এনবিআরের একটি তালিকা থেকে জানা যায়, ১১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৭ জন ব্যবসায়ী। তালিকায় রয়েছে সাতটি শিল্পগোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠান। ৬৭ ব্যবসায়ীর মধ্যে ছয়জন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংসদ সদস্য ছিলেন এবং দুজন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের পাশাপাশি স্ত্রী, ভাই ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের নামও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছেন দেশের পরিচিত ও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা।

রাজনৈতিক পরিচয়কে ঘিরে তালিকা, বিপাকে শিল্পগোষ্ঠী

তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান মণ্ডল গ্রুপ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে গ্রুপটি প্রায় ৫৬ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক ও কর্মী।

গ্রুপটির ২৮টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান আবদুল মমিন মণ্ডল, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল আলিম মণ্ডল, পরিচালক জোবায়ের মণ্ডল ও আসাদুর রহমানসহ ১৯ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

আবদুল মমিন মণ্ডল সিরাজগঞ্জ-৫ আসন থেকে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

অন্যদিকে চট্টগ্রামের ওয়েল গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপটির চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, পরিচালক সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ শহীদুল ইসলাম ও সৈয়দ তারিকুল ইসলামসহ ১১ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর ভাই সৈয়দ নুরুল ইসলাম আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের উপদেষ্টা ছিলেন। বর্তমানে তিনি কারাবন্দী। পোশাক, বস্ত্র ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যের ব্যবসা রয়েছে ওয়েল গ্রুপের।

এ ছাড়া গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। গ্রুপটির চেয়ারম্যান খতিব আবদুল জাহিদসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। তবে আবদুল জাহিদের আওয়ামী লীগের কোনো পদে সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা বিজিএমইএর নেতারাও নিশ্চিত নন।

উত্তরার নিপা গ্রুপের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব এবং চেয়ারম্যান খসরু চৌধুরীসহ চারজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। খসরু চৌধুরী দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন।

এ ছাড়া বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম আবদুল মান্নান এবং তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। একইভাবে মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তাঁর পরিবারের সদস্য ফরিদা ইলিয়াসের ব্যাংক হিসাবও জব্দের আওতায় এসেছে।

রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক নেই, তবু ব্যাংক হিসাব জব্দ

আশির দশকে যাত্রা শুরু করা স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ দেশের অন্যতম বড় তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান। গ্রুপটির তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম মোশাররফ হোসেন, আতিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসনাত মোশাররফসহ আটজনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের এমডি হাসনাত মোশাররফ এ বিষয়ে বলেন, ‘এনবিআর অত্যন্ত অন্যায্যভাবে আমাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। আমরা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। অন্য অনেক কারখানার মতো আমাদের কারখানার শ্রমিকেরাও আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। তার মানে এই নয় যে আমরা তাঁদের ইন্ধন দিয়ে রাস্তায় নামিয়েছি। এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’

ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের কারণে বিপাকে পড়েছে তুসুকা গ্রুপও। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ফয়জুর রহমানের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার সূত্র ধরে গ্রুপটির ১০টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালক ফয়জুর রহমান, আরশাদ জামাল, রেফায়েত উল্লাহ ও ফিরোজ আলমসহ নয়জনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফয়জুর রহমান গ্রেপ্তার হন। তবে গ্রুপটির অন্য অংশীদারেরা এখনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুসুকা গ্রুপের এক পরিচালক জানান, গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের মাধ্যমে কর্মীদের বেতন পাঠানো হলেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ থাকায় সব কর্মীর বেতন পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, তাঁদের কারখানাগুলোতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে এক থেকে দেড় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়। গ্রুপটির চার উদ্যোক্তার মধ্যে একজন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অন্য তিনজন কখনো রাজনীতি করেননি। অথচ তাঁদেরও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

তাঁর আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে রপ্তানি আদেশ ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ব্যবসায়ী নেতাদের

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক মনে করেন, শ্রমিক আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে ঢালাও ব্যবস্থা না নিয়ে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘ভালোভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিলে কারও কোনো আপত্তি থাকবে না। কিন্তু ঢালাওভাবে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলবের মতো উদ্যোগ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন।’

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও মনে করেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ আনার আগে ভালোভাবে তদন্ত করা উচিত। এরপরই ব্যবস্থা নেওয়া যুক্তিযুক্ত। আমরা এখনো পুরো তালিকা পাইনি। এরপরও আমরা বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করব।’

ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, শ্রমিক আন্দোলনে কারও ইন্ধন বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে রাজনৈতিক পরিচয়, পুরোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক কিংবা অনুমানের ভিত্তিতে কোনো উদ্যোক্তাকে দায়ী করা হলে তা দেশের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাঁদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতিতে দেশি উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। তাই দ্রুত, নিরপেক্ষ ও তথ্যপ্রমাণভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং নির্দোষ ব্যবসায়ীদের হয়রানি থেকে রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।