ইটটি যদি মাথায় লাগত, হয়তো বেঁচে থাকতাম না’—সিলেটে হামলার পর তারেক রহমানকে কড়া বার্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর
সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে কঠোর রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হামলার জন্য বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দায়ী করলেও এ ঘটনায় কোনো আইনি পদক্ষেপ নেবেন না বলে জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সিলেট থেকে ফেরার পথে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকায় এনসিপির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় আহত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চলন্ত গাড়ির জানালার কাচ ভেঙে একটি বড় ইট তার হাতে এসে আঘাত করে। এতে তিনি আহত হন এবং তার সঙ্গে থাকা এক সহযোগীও রক্তাক্ত হন। তিনি বলেন, হামলায় ব্যবহৃত ইটটি এখনো তাদের গাড়িতে সংরক্ষিত রয়েছে।
তিনি বলেন, “ইটটি যদি হাতে না লেগে মাথায় আঘাত করত, তাহলে হয়তো আমি আজ বেঁচে থাকতাম না। এটি ছিল একটি প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা।”
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “তারেক রহমান একটি বড় রাজনৈতিক ভুল করেছেন এবং এর দায় তাকে বহন করতে হবে। আমি আগে থেকেই সতর্ক করেছিলাম, কিন্তু সেই সতর্কতা গুরুত্ব পায়নি। আজকের ঘটনায় প্রমাণ হয়েছে, তাদের রাজনৈতিক পরিবেশেও আমাদের জীবন নিরাপদ নয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমার রক্ত আজ একটি নতুন সীমারেখা তৈরি করেছে। এই ঘটনার রাজনৈতিক জবাব রাজপথেই দেওয়া হবে। আজ থেকেই আপনাদের রাজনৈতিক শক্তির পতনের সূচনা হয়েছে।”
হামলার জন্য বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে দায়ী করে তিনি অভিযোগ করেন, হরিপুরে এনসিপির কর্মসূচি শেষ করে রওনা হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। তার দাবি, পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও হামলাকারীরা অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক উসকানিমূলক রাজনৈতিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এই হামলা সংঘটিত হয়েছে এবং এর দায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের এড়ানোর সুযোগ নেই।
এ ঘটনায় মামলা করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে আছি, এই ঘটনায় কোনো আইনি ব্যবস্থা নেব না। এর রাজনৈতিক জবাব রাজনৈতিকভাবেই দেওয়া হবে।”
এনসিপির দাবি, সিলেট অঞ্চলে তাদের অন্তত পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ হামলার প্রতিবাদে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
