পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া
হাসনাত বলেন, সরাসরি জবাব না দিয়ে প্রতিমন্ত্রী যেভাবে ব্যঙ্গাত্মক ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন, তা শুধু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার বিষয় নয়; বরং এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির ‘কে এত চিন্তিত’ কিংবা ‘২০০৮ নিয়ে আবার উত্তেজিত’—এ ধরনের মন্তব্য করেছেন। হাসনাতের ভাষ্য, একজন মন্ত্রীর কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া….
হাসনাত আরও বলেন, কূটনীতিকদের আচরণ সাধারণত বিনয়ী ও সংযত হয়। কোনো প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দিতে না চাইলে কূটনৈতিক কৌশলে তা এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে প্রশ্নকারী ও গণমাধ্যমকে আক্রমণ করা পেশাদার আচরণ হতে পারে না।
সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকত্ব থাকলে একজন ব্যক্তি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন কি না—এ বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং অতীতে বিদেশি নাগরিকত্বের কারণে এনসিপির একজন নেতাও নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া…
হাসনাতের অভিযোগ, বিএনপির কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনের সময় বিদেশি নাগরিকত্বের তথ্য গোপন করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর উল্লেখ করা তথ্যের কথাও তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেননি।
হুমায়ুন কবিরকে ব্যক্তিগতভাবে শত্রু মনে করেন না জানিয়ে হাসনাত বলেন, তিনি দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে তারেক রহমানের সহযোগী হিসেবে ছিলেন। ফলে তার নাগরিকত্বের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী জানতেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া….
হাসনাত বলেন, ‘আমরা হুমায়ুন কবিরের জেল-ফাঁসি চাইছি না। শুধু জানতে চাই, তিনি যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব ছেড়েছেন কি না। ছেড়ে থাকলে তার প্রমাণ কী?’
তার দাবি, প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যঙ্গ করা এবং রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করা গণমাধ্যমের জন্য উদ্বেগের বিষয়। একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করতে ভয় পেলে পরবর্তীতে অন্যরাও প্রশ্ন করার আগে দ্বিধায় পড়বেন—এভাবেই সংবাদমাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ বা ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে হাসনাত বলেন, ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা সাংবাদিকদের রাজনৈতিক তকমা দেওয়া এবং ভয়-চাপের পরিবেশ তৈরির সংস্কৃতি নতুন সরকারের সময়ে ফিরে আসা উচিত নয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে হাসনাত আবদুল্লাহর কড়া প্রতিক্রিয়া….
সবশেষে তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে নাগরিকত্বের বিষয়ে সরাসরি ও তথ্যভিত্তিক জবাব দাবি করেন। একই সঙ্গে শুধু দুঃখপ্রকাশ নয়, হুমায়ুন কবিরকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে—তিনি বর্তমানে কোনো বিদেশি নাগরিকত্বের অধিকারী কি না।
