জাতীয়

সব উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার


দল-মত কিংবা অঞ্চলভেদে নয়, দেশের সব উপজেলার মানুষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার। কোনো একটি উপজেলাকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে অন্য উপজেলাগুলোকে পিছিয়ে রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

সব উপজেলায় সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার…..

শনিবার (তারিখ উল্লেখ করা হয়নি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সমবায় ভবনের মাল্টিপারপাস হলে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের আয়োজনে ‘সমবায় সমিতির মাধ্যমে নগর ও পল্লী অঞ্চলে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে কর্মকৌশল নির্ধারণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের ৫০৩টি উপজেলার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। একটি উপজেলার জন্য এমন কোনো সুবিধা দেওয়া উচিত নয়, যা পাশের উপজেলার মানুষ থেকে বঞ্চিত হন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে সব এলাকার মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনায়

সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, তাঁরা কেবল চাকরিজীবী নন, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সেবায় নিয়োজিত। তাঁদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করেছে।

তিনি বলেন, সীমিত সম্পদের কারণে একসঙ্গে সব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও আগামী কয়েক বছরে পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিবছর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন সমন্বয়ের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর তৃণমূলকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও তাঁদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে গুরুত্ব

নবায়নযোগ্য জ্বালানির গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত জ্বালানির উৎস সীমিত হয়ে আসায় সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। সৌরশক্তির যথাযথ ব্যবহার বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে সৌরবিদ্যুতের সুফল দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছায়।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় খাতের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যপরিধি ও সুযোগ-সুবিধা আরও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে অধিদপ্তরে রূপান্তরের প্রস্তাবসহ কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে।

কার্যকর করতে হবে সমবায় সমিতিগুলোকে

দেশে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত সমবায় সমিতি রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শুধু সমিতির সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়; এগুলোকে কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ এলাকার সমবায় সমিতিগুলোর কার্যক্রম যাচাই করার এবং সেগুলোকে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, সমবায় সমিতির নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা প্রয়োজন, যাতে গ্রামের সাধারণ মানুষ সহজেই সমিতি গঠন করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সৌরপ্যানেল স্থাপনে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড়

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে বলে তিনি আশাবাদী।

তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজারের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইভাবে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন সমিতিগুলোর মাধ্যমেও সৌরপ্যানেল স্থাপন করা গেলে দেশের সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সহায়তা পাওয়া যাবে।

গ্রামের মানুষকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সৌরপ্যানেল স্থাপন ও সহায়ক সেবা কেনার জন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে ইতোমধ্যে ৩৯০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে।

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।