ভারতের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাই মূল প্রশ্ন: নাহিদ ইসলাম
ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা বাংলাদেশের প্রত্যাশা নয়। তবে প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ যথাযথভাবে সুরক্ষিত হচ্ছে কি না—সেটিই মূল প্রশ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ভারতের সঙ্গে শত্রুতা নয়, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষাই মূল প্রশ্ন: নাহিদ ইসলাম…..
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর পলাশী মোড়ে আগ্রাসনবিরোধী আট স্তম্ভের সামনে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। ২০১৯ সালে ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আবরার ফাহাদ স্মৃতি সংসদ’ এ সভার আয়োজন করে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “ভারতের সঙ্গে কোনো ধরনের বৈরিতা বা শত্রুতা আমাদের প্রত্যাশা নয়, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—আমাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে কি না।”
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের অভিন্ন নদীর সংখ্যা অনেক। আন্তর্জাতিক নদী আইন অনুযায়ী এসব নদীর পানিতে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার কথা থাকলেও গত পাঁচ দশকে দেশটি সেই অধিকার যথাযথভাবে পায়নি।
গঙ্গা চুক্তিতে নতুন শর্তের দাবি
১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ভারত বারবার বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিবেশীসুলভ ও সুসম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলে আসছে। গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে ভারতকে সেই অবস্থানের বাস্তব প্রমাণ দিতে হবে।
তার মতে, শুধু আগের চুক্তি নবায়ন করলেই হবে না; নতুন বাস্তবতার আলোকে একটি নতুন চুক্তি করতে হবে। পাশাপাশি বিষয়টি শুধু পানিবণ্টনে সীমাবদ্ধ না রেখে অভিন্ন নদীগুলোর যৌথ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
গঙ্গা চুক্তিতে সারা বছর নদীতে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম নাব্যতা বজায় রাখার মতো পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে শুষ্ক মৌসুমে পানির ঘাটতি দেখা দিলে তার প্রভাব দুই দেশ সমানভাবে বহন করবে—এমন একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ রাখার কথাও বলেন নাহিদ।
‘সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে হবে’
বিএনপি সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার ফাহাদের চেতনাকে ধারণ করতে হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পুনঃস্থাপন করতে হবে।
ভারত যদি সত্যিই প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়, তাহলে গঙ্গা, তিস্তাসহ সব অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন চুক্তি ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
‘শুধু বোয়িং বিমান কিনলেই চলবে না’
সরকারের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু বোয়িং বিমান কেনাই যথেষ্ট নয়। গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি কীভাবে নবায়ন বা নতুন করে করা হচ্ছে এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটা নিশ্চিত করা যাচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও দেশের স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নাহিদ বলেন, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে করা সব আন্তর্জাতিক চুক্তি জাতীয় সংসদে আলোচনা করা উচিত। জনগণের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এসব চুক্তির পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিতে হবে।
আবরার হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি
আবরার ফাহাদ হত্যার প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, আবরার তৎকালীন সরকার বা তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে কিছু বলেননি। তিনি ফেনী নদীকে কেন্দ্র করে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের করা একটি চুক্তির সমালোচনা করেছিলেন। আর সেই সমালোচনার কারণেই তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল বলে দাবি করেন নাহিদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের যে ধরনের সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, আবরার হত্যার মধ্য দিয়ে তার একটি দিক স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, তারা হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিতদের মৃত্যুদণ্ড দ্রুত কার্যকর দেখতে চান।
বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারলেই আবরার ফাহাদের আত্মা শান্তি পাবে বলেও মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
